এই রাতের শেষ না হোক

এই রাতের শেষ না হোক…
হাজার বছর ধরে চলতে থাকুক এই রাত…
কিছু মানুষ জেগেই থাকুক অন্তিম সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়
বাকিসব ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিক বাকিটা সময়..
কেউ ডাকবে না.. কখনোই ডাকবে না..
ক্ষণেক্ষণে স্মৃতিভ্রম হয়ে মুছে যাবে সব..
শতাব্দী পেরিয়ে ভুলে যাক পুরনো হিসেব..

আজ রাতের শেষে সকালটা আর না ফিরুক
স্তব্ধ হয়ে যাক পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি
ছিটকে পরুক সব মহাবিশ্বের আনাচেকানাচে
শূন্য হয়ে যাক পুরনো শূন্যতারা
তবুও আর না আসুক ভোরের আলো…

ঘুমিয়ে থাকুক সব কথা বলা সত্তাগুলো
আর জেগে থাক সব নির্বাক আত্মারা…
তারা ফিরে পাক তাদের নিশ্চুপ নির্জনতা
অনম্ত সে রাতের মাঝে অসীম সময়ে হারিয়ে যাক এরা

কিছু স্বপ্ন চলতে থাকুক এক পা দু পা করে
বাকি সব পরে থাক হাজার বছরের রাতের ভিড়ে
কেউ ডাকবে না.. কখনোই ডাকবে না..
সকাল হয়নি বলে…

Advertisements

লোকাল বাস ও কিছু অভিজ্ঞতা

ডার্ক চকলেট, লাইট চকলেট, ভ্যানিলা, ওরিও সেক, মিল্ক সেক, স্ট্রোবেরি… না না স্ট্রোবরি রেয়ার… কত শত কালারের মানুষের দেখা পাই লোকল বাসে… ☺
কারো কারো তো চোখে মুখে এমন বিরক্তির ছাপ যেন কেউ তার আন্ডারওয়্যার এর মধ্যে ছারপোকা ছেড়ে দিয়েছে…
কারো তো চার আঙুল কপালে আট.. দশটা করে হতাশার রেখা…
তারপর দেখা যায় মিউজিয়াম গুলোতে সুসজ্জিত মোমের মূর্তির বৈশ্বিক পরিবর্তনের মত রূপ… এলিট শ্রেনীতে এদের না জন্মানোটা আজন্ম পাপ…
কেউতো আবার ব্রাজেনটিনার মত এগ্রেসিভ… কি জানি টক দইয়ে এক চামচ জিরা সেবনেও এরা হয়ত মাথা ঠান্ডা রাখতে পারে না…

এরপর আসে আর একটা শ্রেনী… যারা কিনা দাঁত ক্যালানোর সর্বোচ্চ ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়… গুটিকয়েক দাঁত বাদে বাকি সব গুলো প্ররদর্শন করতে করতে এরা বাসে পা রাখে… এতটা খুশি হয়ত পুরো এক ঘন্টা পাব্লিক টয়লেটের সিরিয়াল শেষে সর্বোৎকৃষ্ট বিসর্জন শেষেও কোন ভদ্রলোক হয় না… যতটানা খুশি তাদের দেখা যায়… কিন্তুু সিট না পেয়ে দাড়িয়ে থাকা ঐ মানুষটাই আবার নিমিষেই গোমড়া হয়ে যায়… পৃথিবীর কি বৈচিত্রময় রূপ… 😱

সবশেষে আসে কিছু ভদ্রমহোদয় যারা কিনা অসম্ভব ম্যাগনেটিক ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়… অবশ্য একটা লিমিটেড ব্যাপার আছে… এই ক্ষমতা শুধু সুন্দরী কিংবা আধা সুন্দরী নারীদের ক্ষেত্রে প্রোযজ্য… এরা যেন ঐ ভদ্রমহোদয়দেরকে চৌম্বকের মত টানে… 😖

তো খুব শিগ্রই লোকাল বাসের হেল্পার হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছি… অজস্র মানুষ নিয়ে অ্যানালাইসিস হবে… অজস্র মুখের দেখা পাব… অবশেষে ড্রিম জব হাতের নাগালে… ☺
এইযে স্যারর, ম্যাডাম যাবেন…???
মতিঝিল
সিট আছে… কিন্তুু খালি নেই… ☺

অদ্ভুত সুন্দর একজোড়া পা

গ্রিনরোডে রিকসায়… আর সেই চিরাচরিত জ্যাম।
রোদের তাপে সানগ্লাস ছাড়া সব ঝলসানো মরুভূমির মত লাগে… তো মরুভূমিতে মরিচীকা দেখা যাবে স্বাভাবিক… আমি তাই খুজছি…
হঠাৎ করে চোখ পড়লো সামনের হুডতোলা রিকসাটার দিকে… কেমন যেন মনের মধ্যে কিউরিয়াসিটিতে একাকার… মামাকে বললাম একটু সামনে আগাও…
প্রথমেই চোখ পড়ল একজোড়া পায়ের দিকে… ড্যাম আমি পুরোপুরি নিশ্চিত এত সুন্দর পা আমি আমার জীবনে কখনোই দেখিনি… এই পায়ের সৌন্দর্য্য বিশ্লেষণ করতে সহস্র উপমাতেও এর কাছাকাছি পৌছানো যাবে না…
লেখক হলে হয়তবা এই পা নিয়ে আমি আট-দশটা উপন্যাস লিখে ফেলতাম… কিন্তুু তা তো আর পারছি না…
ওপরে তাকিয়ে দেখি ভদ্র মহিলা ব্যাটম্যান বোরখা পরা সাথে পারফেক্ট পর্দা… শুধু চোখ দেখা যাচ্ছে…
চোখের দিকে তাকিয়ে পরলাম মহা বিপদে…. কারো চোখের প্রেমে পরার মত ভাগ্য কখনোই হয়নি আমার যদিও মহান মহান ব্যক্তিবর্গরা চোখ নিয়ে অজস্র কথা বলে গেছেন…
তো এবার মনে হচ্ছে আমিও তাদের মত চোখের প্রেমে পড়ে যাচ্ছি ইনি মানুষ নাকি…. আমি চিন্তাশূন্য…
মেয়েটার চোখ দেখে স্পস্ট বোঝা যাচ্ছে সে বিরক্তি, বিষন্নতা আর ভয়ের গন্ডিতে হামাগুড়ি খাচ্ছে… আর আমি তাকিয়েই আছি বেহায়ার মত… মেয়েটা আর সহ্য করতে না পেরে বলেই ফেললো – সমস্যা কি?
আমার মুখ থেকে তখন অবলীলায় বের হয়ে এলো…
– God promise… You have the most beautiful leg I had ever seen… And those eyes…
কিছু কিছু ইমোশনের ক্ষেত্রে ইংরেজি এমনি এমনি চলে আসে…

মেয়েটা হাসছে নাকি কান্না করছে কিছুই আমি বুঝতে পারছি না… তবে তার চোখের সেই বিরক্তি, বিষন্নতা আর ভয়ের ছাপ চরম লেভেলে পৌছে যাচ্ছে… সবকিছু স্পস্ট ধরা দিচ্ছে…

বাকি কিছু বুঝে ওঠা কিংবা নতুন কোন চ্যাপ্টার শুরু হওয়ার আগেই আগেই সিগন্যাল ছেড়ে দিয়েছে….
অতঃপর সমাপ্তি ।

বিঃদ্রঃ ইহা ছিলো ছ্যাচড়ামোর অন্যতম এক উদাহরণ… যা কিনা সোকলড ইভটিজিং নামে পরিচিত… যা এক প্রকার ক্রাইম… আমি এর সাপোর্ট করা কিংবা কাউকে এ কাজে ইন্সপায়ার্ড করি না। আমাদের সবার উচিত এ ধরনের কার্যকর্ম থেকে দূরে থাকা… এবং এর প্রতিহত করা যেন নারীরা নিরাপদে, নির্ভয়ে রাস্তায় চলা ফেরা করতে পারে… শেষকথা নারীদের সম্মান করা।

আর হ্যাঁ… এট লেখাটা শুধুই একটি অস্বাভাবিক স্বাভাবিক ঘটনা… এর সাথে নেগেটিভ চিন্তা মেশাবেন না…

বর্ণমালা

বর্ণমালা কত সহস্র রজনী বাদুড় দেখি না
চলোনা কোন অমাবস্যা রাতে
বাদুড় হয়ে উড়ি দিগন্ত পাড়ে
খুব যে সখ জাগে আমিও ভাসি মেঘের ওপরে
নীড় বাধি নিস্তব্ধ জঙ্গলে গাছের কোটরে…

কিন্তুু তোমায় ছুতে পারলে তো!!!
কি এক নিভু নিভু তারা হয়ে জ্বলো সন্ধ্যার আকাশে
একটুকু দেখব বলে কত সাধ-আহ্লাদ বাদ দিয়ে
রক্ত চোষা বুনো শুয়োরদের থেকে পালিয়ে
কতশত আত্মত্যাগে চিন্তারা ধূসর হয়ে গেছে…

আচ্ছা তোমার কিসের এত হারাবার ভয়
ঝলসে যাওয়া চুলের আড়ালে আর কত কাল…
কত প্রহর তারা গুনে কাটিয়েছ সন্ধের অপেক্ষায়
এখনো কি মাঝ বেলায় জানালা খুলে তাকাও..
তবে কিসের এত দ্বিধা তোমার.. কেন বারবার হারাও..

Continue..

অমিমাংসিত

তখন আর বয়স কতইবা হবে
এই সবে একাত্তর পেরিয়ে বাহাত্তর এর প্রথম রজনী
বুড়িয়ে যায়নি মহোদয়… এখনো চির তরুণ
মদের গ্লাস হাতে নিয়ে এখনো বেসুরো গান গায়

শেষবার যখন দেখা হয় তখন উনি প্যারিসে
উসকো-খুসকো চুল নিয়ে এক গির্জার বাইরে দাড়িয়ে
নামটা যেন কি ছিল.. ও হ্যা নটরডেম ক্যাথেড্রাল নামে চিনে লোকে
সময়টা ছিলো হয়তবা তৃতীয় সুগারবেবির ফিউরেনালে

এখনো তেমনি আছে.. পাল্টায়নি মহোদয়
বলতেই হবে বুড়োর দম আছে… সহজে হার মানা নয়
তবে বড্ড অবসাদ ছুঁয়েছে, দেখলেই বোঝা যায়
ইচ্ছে করে আনমনে থাকার অভ্যাসটা যায়নি বোধহয়…

প্রথম পরিচয় শিকাগোতে লস্ট লেক বারে কোন এক রবিবারে
প্রানবন্ত সে এক সময়… শুনতে শুনতে রাত পেরিয়ে ভোর
ভালো ছিল কিনা জানা নেই.. তবে মন থেকে হারায়নি কোন সময়
বন্ধুত্বের শুরুটা স্বাভাবিক হলেও, কিছু মানুষ মনে দাগ রেখে যায়

সখ ছিলো খুব.. এটা করবে ওটা করবে… আরো কত কি
মাটি চাপা হয়ে থাকবে না, আগুনে পুড়বে না… ঘুমোবে বরফেই
শুনে মুখ চেপে হাসতাম আমি.. মহোদয় পাগল নাকি
পাগল কিনা জানিনা.. তবে স্বপ্ন ছিলো বড় বড়
পৃথিবী চষে বেড়ানো মানুষটার স্বপ্ন বড় হওয়াটাই যে ধর্ম

নতুন ক্যাসেল কিনেছেন… পুরনো সখ মাথাচাড়া দিয়েছে তাই..
ফোন দিয়ে বললো যেতেই হবে, না হয় ফাকা পরে থাকবে গ্লাস
আমি তখন দোটানায়.. বাইপাস সার্জারি হলো সবে দুদিন যায়
যেতে তো হবেই আমায় যাকে কথা দিয়েছি তাকে ফেলার মত নয়
পৌছে তো অবাক.. এমন ভুতুড়ে বাড়ি কখনো দেখিনি আমি
কি জানি পাগল মানুষদের এমনই সখ জাগে বোধহয়…

সেবার তো ভর দুপুরে সে কি কান্ড…
মস্কোতে ফাকা রাস্তায় দাড়িয়ে ঠায় উলঙ্গ
চিৎকার করে বলছে… আমি মহাকাল হয়ে বাঁচবোই
রেখে যাব গুটি কয়েক পদচিহ্ন… হারছি না আমি
আমার চোখে মুখে তখন বিষন্নতার ছাপ
দৌড়ে গিয়ে কাপড় জড়িয়ে বললাম –
অনেক হয়েছে, চলুন এবার.. না হয়
জেলের করিডোরেই কাটাতে হবে পুরোটা রাত…

কিছু মানুষ জন্মায় নিজের জন্য…
তাদের চাওয়া পাওয়াটাও থাকে সবার থেকে একটু ভিন্ন
ওরা বাঁচতে শেখে সবকিছুকে ছাপিয়ে
ওরা আসে আবার নিমিষেই হারিয়ে যায়
অনেকেই হয়ত ওদের বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ বলে
কিন্তুু ওরা স্বাভাবিক- অস্বাভাবিকতার বেড়াজাল ছিড়ে
সবকিছু থেকে দূরে সব ছাপিয়ে পালিয়ে বেড়ায়
ওরা থাকে অগোচরে… মিথ্যে কপোট সত্যি-মিথ্যার আড়ালে

পেছন থেকে কাঁধে হাত রাখতেই ফিরে তাকায়
জ্বল-জ্বলে চোখে তাকিয়ে থাকতে থাকতে
চোখ যে ঝাপসা হয়ে গেল.. ঠিক বোঝা যায়
উঠে জড়িয়ে ধরে সে কি কান্না কখনো ভোলার মত নয়
কাঁপা কাঁপা কন্ঠে শুধু বললো এতকালে মনে পড়লো তবে হায়…

বন্ধু আমার খুব বেশি ছিল না.. ঐ হাতে গোনা একটাই…
হারাতে চায়নি আমি… তবুও সে হারিয়ে যায়…

অপেক্ষা

বদ্ধ রুমে কেউ একাকী কাঁদবে…
অবলীলায় চোখের অশ্রু ঝরবে..
পুরনো অতীত খুবলে খাবে ব্যাথাতুর হৃদপিন্ডটাকে…
বারবার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে গলাটা ধরে আসবে…

সচল পৃথিবীতে অচল হয়ে
বেছে থাকবে বছর কুড়ির মত…
মস্তিস্কে রক্তচলাচল দিনকে দিন কমতে থাকবে….
মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পরবে
অজস্র না বলা কথার ভিড়ে…

ফুলের সুবাস আর নর্দামার দুর্গন্ধ
মিলে ‎মিশে হয়ে যাবে একাকার…
ক্ষিপ্র চিন্তাগুলো দিকবিদিক ছুটবে অচেনা পথে…
মলিন হয়ে যাবে চোখ-মুখ
সাথে অতি যত্নে লালিত স্বপ্নগুলো…
একাকী জানালায় মুহূর্তেই ভারী হয়ে আসবে বুকটা…

চারদিকটা নিকোশ কালো অন্ধকারে পরিনত হবে…
সব ভালোলাগা কষ্টগুলো একাকার হয়ে
‎বাড়িয়ে দেবে স্বাভাবিক হৃদস্পন্দনগুলোকে….
‎বারবার যাপসা হয়ে যাবে পাওয়ারি চশমাগুলো…
প্রতিটা মুহূর্ত হাজার বছরের প্রতিক্ষায় পরিনত হবে
পাওয়া না পাওয়ার অযাচিত ভীরে…
‎‎নিশ্বাসগুলো ভারী হয়ে উঠবে ধাপে ধাপে…

না আমি ভয় পেতে বলছি না… মোটেও না…
শুধু বলছি অপেক্ষা করতে….

আপনাকে অসম্ভব মাত্রায় ভালোবাসার মানুষটা….  মানুষ হিসেবে ভালো নাও হতে পারে…  সুতরাং বাছবিচারে বিচক্ষণতা বজায় রাখাটাই হবে বুদ্ধিমানের ধর্ম…  

– শূন্য নয়।